চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ একই সঙ্গে পরীক্ষায় অসদুপায় বা নকল অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে৷ আজ শনিবার ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় মোট অনুপস্থিত ছিলেন ২৭ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী৷ এছাড়া পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাতেনাতে বহিষ্কার করা হয়েছে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে৷
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের পরীক্ষায় মোট অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং বহিষ্কার হয়েছিলেন ৭ জন শিক্ষার্থী৷
বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিতির পরিসংখ্যান: আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের রানিং পরিসংখ্যান অনুযায়ী— আজ শনিবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় মোট ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল৷ এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ১১৫ জন, অর্থাৎ অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৬SetUp ৩৯ জন (২ দশমিক ২৮ শতাংশ)৷
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আরবি প্রথম পত্র ও আরবি সাহিত্য পরীক্ষায় ৮৪ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৯১ জন৷ এই বোর্ডে মোট ৫ হাজার ২০২ জন (৬ দশমিক ১৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা শতাংশের হিসাবে সর্বোচ্চ৷
এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি-২ পরীক্ষায় ৮৫ হাজার ৭৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮৩ হাজার ২৬৩ জন৷ এই বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী (২ দশমিক ৯০ শতাংশ) অনুপস্থিত ছিলেন৷
বহিষ্কারের চিত্র: আজকের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কুমিল্লা ও বরিশাল বোর্ডে ২ জন করে এবং রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন৷ অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে ৭ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন৷ তবে কোনো বোর্ডেই কোনো পরিদর্শক বা শিক্ষক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি৷
পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি ও কঠোর নজরদারি: সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, যা গতবারের তুলনায় ২২ হাজার ৭৬৬ জন বেশি৷ সূত্রমতে— এবার দেশের সাধারণ সব শিক্ষা বোর্ডে একই ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷
আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ লিখিত পরীক্ষা চলবে এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা৷ প্রশ্নফাঁস ও রানিং গুজব ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ দেশের শিক্ষা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ও কক্ষ সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার ক্লোজ নজরদারির আওতায় এনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে বোর্ড প্রশাসন নিশ্চিত করেছে৷
