ফেনীতে মধ্যরাতে মাছ বোঝাই ট্রাক ছিনতাই; সোনাগাজী পৌর যুবদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফেনীর সোনাগাজীতে এক মৎস্য খামার মালিকের মাছবোঝাই ট্রাক গতিরোধ করে চালককে জিম্মি ও দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয় পৌর যুবদলের এক প্রভাবশালী নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

আজ শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক নুরুল আমিন বাদী হয়ে সোনাগাজী পৌর যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম, রানা ও ডালিমসহ ৫ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন৷

মধ্যরাতে জিম্মি ও ছিনতাই: মামলার লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়— গত কাল শুক্রবার মধ্যরাতে সোনাগাজী উপজেলার চরখোন্দকার মৎস্য ঘের থেকে বিপুল পরিমাণ মাছবোঝাই করে একটি ট্রাক কেচিদিয়া এলাকার দিকে যাচ্ছিল৷ ট্রাকটি কেচিদিয়া নামক স্থানে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতি রোধ করে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে সম্পূর্ণ মাছবোঝাই ট্রাকটি ছিনতাই করে নিয়ে চলে যায়৷

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ ও পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান: ঘটনার পরপরই গভীর রাতে খামার মালিক নুরুল আমিন কালক্ষেপণ না করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন৷ ফোন পাওয়ার পর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম রানিং অভিযানে নামে৷ আজ শনিবার ভোররাতে পুলিশ শহরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাছবোঝাই ট্রাকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে— পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ও সাইরেনের শব্দ শুনে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা গাড়িটি ফেলে রেখেই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়৷

খামার মালিক ও যুবদল নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক নুরুল আমিন সাংবাদিকদের জানান— সোনাগাজী পৌর যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য খামার ও জায়গা-জমি নিয়ে তাঁর তীব্র দ্বন্ধ ও বিরোধ চলছে৷ এর জের ধরেই জাহাঙ্গীর আলম তাঁর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী পাঠিয়ে অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে গাড়িসহ মাছ ছিনিয়ে নিয়েছেন৷

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সোনাগাজী পৌর যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় নুরুল আমিন সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়েছেন৷ এই গাড়ি বা মাছ ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে আমি বা আমার কোনো লোক বিন্দুমাত্র জড়িত নয়৷”

তদন্তে সোনাগাজী থানা পুলিশ: সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাশিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান— ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি এবং তা নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে৷ ঘটনার রানিং তদন্ত চলছে৷ এই ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত এবং এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের রানিং অভিযান জোরদার করা হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *