কর্ণফুলী চ্যানেলে অন্য জাহাজের ধাক্কায় লাইটার জাহাজ ডুবি, কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় ১২ নাবিক জীবিত উদ্ধার

চট্টগ্রামের বঙ্গোপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্ণফুলী চ্যানেলে অন্য একটি বড় জাহাজের ধাক্কায় ‘এমভি বে হারবার-২’ নামের একটি লাইটার জাহাজ পুরোপুরি ডুবে গেছে৷ সোমবার দিবাগত রাত তিনটায় কর্ণফুলী চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মাঝামাঝি এলাকায় এই ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে৷ তবে দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দলের ঝটিকা ও দ্রুত তৎপরতায় গভীর সমুদ্রের অন্ধকার থেকে জাহাজে থাকা মোট ১২ জন নাবিককেই অলৌকিকভাবে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া উইং থেকে আমিনুল ইসলাম আজ সকালে সংবাদমাধ্যমকে এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন৷

মাঝরাতের দুর্ঘটনা ও পারকি বিচ থেকে উদ্ধার: কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়— গত রাত তিনটায় একটি অজ্ঞাত জাহাজের সঙ্গে তীব্র ধাক্কা লেগে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামক লাইটার জাহাজটি চ্যানেলের মাঝখানে ডুবে যাওয়ার জরুরি খবর আসে৷ সংবাদ পাওয়ার পরপরই মেটাল শার্ক স্পিডবোট ও বিশেষ দল নিয়ে কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে৷

ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে প্রথম দফায় সমুদ্রের বুক থেকে ভাসমান অবস্থায় আট জন নাবিককে টেনে তোলে কোস্ট গার্ড৷ পরবর্তীকালে প্রবল স্রোতের কারণে আরও চার জন নাবিক ভাসতে ভাসতে পারকি বিচে চলে যান৷ খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের আরেকটি দল তাৎক্ষণিকভাবে পারকি বিচ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সৈকত থেকে বাকিদের উদ্ধার করে৷ জাহাজটিতে থাকা মোট ১২ জন নাবিককেই অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে৷ তবে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি এখনও সমুদ্রের তলদেশে ডুবন্ত অবস্থায় থাকায় সেটিকে টেনে তুলতে বিশেষ উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান আছে৷

বহনকৃত মালামাল ও সচল বন্দর চ্যানেল: প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাকবলিত এই লাইটার জাহাজটি ঠিক কী ধরনের বাণিজ্যিক মালামাল বা কার্গো বহন করছিল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব নাছির উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান— ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজটি দেশের বিশিষ্ট শিল্প গ্রুপ ‘বে হারবার লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন৷ তবে স্বস্তির খবর হলো— এই দুর্ঘটনার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের মূল প্রবেশদ্বার বা চ্যানেলে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি৷ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত এবং সচল রয়েছে বলে বন্দর প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *