কসাই যখন ‘হাই-প্রোফাইল’: ১০ জনের দল নিয়ে বিমানে ঢাকা আসছেন ছোটু নাদিম

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র চার দিন বাকি। এই কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় দক্ষ কসাইদের চাহিদা এখন তুঙ্গে। আর এই চাহিদা মেটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেশাদার মাংস ব্যবসায়ীরা ঢাকামুখী হচ্ছেন। তবে এবার বাসে বা ট্রেনে নয়, রীতিমতো বিমানে চড়ে রাজধানীতে আসছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের একদল দক্ষ কসাই।

তাদেরই একজন সৈয়দপুরের সুপরিচিত মাংস ব্যবসায়ী নাদিম কোরাইশি, যিনি এলাকায় ‘ছোটু নাদিম’ নামে পরিচিত। প্রায় ২০ বছর ধরে এই পেশায় থাকা নাদিম জানান, ঈদের আগের দিন ১০ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকা আসছেন তিনি। ইতোমধ্যে সবার বিমানের টিকিটও কাটা হয়ে গেছে। বংশপরম্পরায় এই কাজের সাথে যুক্ত নাদিম অতীতে ঢাকার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার বাসাতেও কোরবানি দেওয়ার কাজ করেছেন।

জানা গেছে, সৈয়দপুরের কসাইদের একটি বড় অংশ বিহারি সম্প্রদায়ের। চামড়া ছাড়ানো, মাংস নিখুঁতভাবে পিস করা এবং হাড় আলাদা করায় তাদের বিশেষ দক্ষতার কারণে ঢাকায় তাদের আলাদা কদর রয়েছে। কেবল ছোটু নাদিমই নন, ফজলে রাব্বি, নওশাদ আলী ও খয়রাত হোসেনের মতো স্থানীয় আরও অনেক কসাই পৃথক দল নিয়ে এবার বিমানে ঢাকায় আসছেন।

বিমানে আসার কারণ হিসেবে কসাই ফজলে রাব্বি জানান, ঈদের আগে ঢাকা থেকে মানুষ বাড়ি ফেরায় ঢাকাগামী বিমানে যাত্রী কম থাকে, ফলে ভাড়াও বেশ সাশ্রয়ী হয়।

ঢাকায় আসার মূল আকর্ষণ অবশ্য আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক। স্থানীয় কসাই মো. মিন্টু জানান, সৈয়দপুরে ১ লাখ টাকার একটি গরু জবাই ও মাংস কাটার পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। অথচ ঢাকায় একই কাজের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। গত বছর মাত্র ৪ জন সহযোগী নিয়ে ১২টি গরুর কাজ করে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় করেছিলেন ছোটু নাদিম। এবার দল বড় হওয়ায় আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বেশি।

শুধু নাদিম বা রাব্বিই নন, প্রতিবছরের মতো এবারও সৈয়দপুর থেকে শতাধিক কসাই বাস, ট্রেন ও বিমানযোগে রাজধানীতে আসছেন। ঈদের তিন দিন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ শেষে আবার তারা নিজ শহরে ফিরে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *