দীর্ঘদিনের গভীর সামরিক ও রাজনৈতিক বৈরিতা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করার দিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মনোযোগ দিচ্ছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অবস্থান অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কাছাকাছি এসেছে এবং চলমান আলোচনায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
তেহরানে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইসমাইল বাঘাই দুই দেশের মধ্যকার এই নতুন বরফ গলার ইঙ্গিত দেন। বিশ্বরাজনীতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্তব্যকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই দুই দেশের পরোক্ষ সংলাপের অগ্রগতির বিষয়ে বলেন, “বিগত এক সপ্তাহে দুই পক্ষের বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাবনাগুলো আরও অনেক কাছাকাছি এসেছে। একটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর জন্য আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কী ঘটে, সেটির জন্য আমাদের সবাইকে গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।”
যদিও এই বহুপ্রতীক্ষিত সমঝোতা স্মারকের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই মুহূর্তে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমকে এখনও কিছু জানানো হয়নি; তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা— মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা হ্রাস, পরমাণু কর্মসূচির তদারকি এবং ইরানের ওপর থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো মেগা এজেন্ডাগুলোই এই সমঝোতা স্মারকের মূল ভিত্তি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক টেলিফোন সংলাপের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারকের এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতি (Back-channel Diplomacy) পুরোদমে সফল হতে চলেছে। আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে যুগপৎ বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
