কুয়েতে ডিজিটাল বাণিজ্য বা অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনে নতুন আইন জারি করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে কুয়েতে ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে হলে আগেভাগে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন এই আইনটি ‘ডিক্রি-ল নং ১০/২০২৬’-এর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং অনলাইন ব্যবসায় একটি প্রতিযোগিতামূলক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
নতুন আইনের অন্যতম প্রধান বিধান হলো, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে কুয়েত কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মন্ত্রণালয় থেকে বৈধ লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো পণ্য বা সেবা প্রচার বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য হবে।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আইনের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছেঃ-
- রিফান্ড পলিসি: গ্রাহক যদি কোনো পণ্যে ত্রুটি পান বা ভুল সেবা গ্রহণ করেন, তবে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ১৪ দিনের মধ্যে পণ্য ফেরত বা বদল করার অধিকার পাবেন।
- তথ্যের স্বচ্ছতা: অনলাইন স্টোরে পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, মূল্য এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের নম্বর স্পষ্ট থাকতে হবে।
- বিজ্ঞাপনে কড়াকড়ি: ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অনলাইন ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে কুয়েত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত ই-পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ঠেকানো সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইন অমান্যকারীদের জন্য জেল, মোটা অংকের জরিমানা এবং অনলাইন শপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে। এমনকি ব্যবসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম বা সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
আইনটি কুয়েতের অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশের ছয় মাস পর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। এই সময়টুকু মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির জন্য দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আইনের ফলে কুয়েতের অনলাইন বাজার আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
