কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: তীব্র নিন্দা জানিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার কড়া হুঁশিয়ারি কুয়েতের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান ছায়াযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা এবার এক বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে৷ হরমুজ প্রণালির সংকটের জেরে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর এবার তেহরানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কড়া নিন্দা প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত৷ কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে— কুয়েতের ভূখণ্ডে ইরানের এই ‘আগ্রাসন’ দেশটির রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর এক সুস্পষ্ট ও নজিরবিহীন লঙ্ঘন৷

আজ রোববার (২৮ জুন) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য জারি করা এক বিশেষ বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান ও সতর্কবার্তা জানানো হয়৷

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ: কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়— “ইরানের এই ধরনের একতরফা ও উস্কানিমূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল ও ব্যর্থ করে দেয়৷ সেই সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এটি তেহরানের একটি সরাসরি ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ৷”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে— কুয়েত রাষ্ট্র তার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তার জনগণ ও ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সব বিদেশি বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার ও আইনগত স্বাধীনতা রাখে৷

যে কারণে কুয়েতে হামলা চালাল ইরান: ভূ-রাজনৈতিক সূত্র ও সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন— এর আগে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী৷ যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা জবাব দিতেই কুয়েতের অভ্যন্তরে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আলি আল সালেম’-এ আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান৷

তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— কুয়েতের মূল ভূখণ্ডকে টার্গেট করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, বরং কুয়েতের ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করেই এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে৷ তবে বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশি দেশ কুয়েতের ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আকাশসীমার সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা৷

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *