কেন জুমার দিনকে সব দিনের সেরা বলা হয়? জেনে নিন বিশেষ ১০টি আমল

ইসলামি শরিয়তে সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্যে শুক্রবার বা জুমার দিনটি সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনটি ‘ইয়াউমুল জুমা’ বা একত্রিত হওয়ার দিন হিসেবে পরিচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত বলে অভিহিত করেছেন।

জুমার গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য: হাদিসে এসেছে, জুমার দিনেই আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কিয়ামতও সংঘটিত হবে এই শুক্রবারেই। জুমার গুরুত্ব তুলে ধরে পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করা হয়েছে।

বিশেষ আমল ও সওয়াব: জুমার দিন মুসলমানরা জোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাত ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেন। এই দিনের বিশেষ কিছু আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

  • পরিচ্ছন্নতা: উত্তমরূপে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
  • আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে উট বা গাভি কোরবানির সমান সওয়াবের কথা বলা হয়েছে।
  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াত: জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে পুরো সপ্তাহ সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
  • বেশি বেশি দরুদ পাঠ: রাসুল (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তাঁর নৈকট্য লাভ সহজ হবে।
  • দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে, এটি আসরের পরের সময়।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য জুমার দিনটি কেবল একটি ইবাদতের দিন নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য সুযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *