পরবর্তী নেতৃত্বের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোজতবা খামেনি। তিনি সদ্য প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় সন্তান। সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৩টার দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঐতিহাসিক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক জরুরি অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। নির্বাচনের পর সংস্থাটি জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন নেতার প্রতি সবাইকে সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক ভয়াবহ যৌথ হামলায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত হন দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদেরও মৃত্যু হয়। নেতার শূন্যতায় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকট কাটাতে দ্রুত এই নির্বাচন সম্পন্ন করল অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এর আগে কখনও কোনো প্রকাশ্য সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি কিংবা কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে আড়ালে থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে আসছিল।
মোজতবা খামেনির এই অভিষেক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাত্র দুই দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ট্রাম্প এমনকি ইরানের নেতা নির্বাচনে ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকার দাবিও করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের সেই কঠোর অবস্থানকে তোয়াক্কা না করেই খামেনিপুত্রকে বেছে নিল তেহরান।
সূত্র: আল জাজিরা
