ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। রোববার (১ মার্চ) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করার পর যেমন দ্রুত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তেমনটা ভাবলে ভুল হবে। উলম্যানের মতে, “খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ভুল ছিল, যা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।”
হারলান উলম্যান জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলা ‘চিত্তাকর্ষক’ হলেও এটি ইরানের মূল সামরিক কাঠামো বা নেতৃত্বকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নেতৃত্বের ‘শিরচ্ছেদ’ করার কৌশল তখনই কার্যকর হয় যখন পুরো কাঠামো একবারে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ইরান এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তাদের হাতে পর্যাপ্ত ড্রোন ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে যা দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে।”
উলম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খামেনি এখন অনেকের চোখে ‘শহীদ’। তার মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন আরও সংহত করবে। তিনি সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানির নাম উল্লেখ করে বলেন, “আলী লারিজানি বেঁচে থাকলে তিনি অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবেন। তার প্রতিশোধ হবে ভয়াবহ।”
তিনি আরও বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই ইরান আলোচনায় বসবে—এমন ধারণা অবাস্তব। বরং লারিজানির মতো নেতারা এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ও কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে এবং রাশিয়ার কাছেও বড় পরিসরে ড্রোন বিক্রি করেছে। ফলে সাম্প্রতিক হামলার পরও দেশটির হাতে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হারলান উলম্যানের মতে, ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা ভাবার সুযোগ নেই এবং আঞ্চলিক এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী ও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে যাচ্ছে।
