দপ্তরের কাজরত অবস্থাতেই শাহাদাতবরণ, খামেনেয়ির শোকে স্তব্ধ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ

ইরানের দীর্ঘ চার দশকের ইতিহাসের এক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি। শোকাতুর হৃদয়ে রোববার (১ মার্চ) সকালে তেহরান এই সংবাদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনেয়ির প্রয়াণে পুরো ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে তেহরানে খামেনেয়ির কার্যালয় ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। ফারস এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দপ্তরে নিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শনিবার সকালেই তিনি প্রাণ হারান।

শনিবার রাতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে খামেনেয়ি আর নেই। তবে তেহরান দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্যটি বিশ্ববাসীকে জানাল।

কেবল খামেনেয়িই নন, এই হামলায় তার পরিবারের সদস্যরাও মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় খামেনেয়ির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও নিহত হয়েছেন। এক নিমিষেই একটি পরিবারের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ায় ইরানি নাগরিকদের মধ্যে শোকের মাতম বইছে।

রোববার সকালে তেহরানের আকাশে কালো পতাকা ওড়ানো হয়। দেশটির রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। সরকার শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের এই আধ্যাত্মিক নেতার শূন্যতা অপূরণীয়। শোকের এই ৪০ দিন দেশটিতে জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে শোকগাথা বাজানো হবে।

ইরানের এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে প্রবল কৌতূহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *