মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ইসরায়েলের ওপর সরাসরি রকেট হামলা শুরু করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (২ মার্চ) দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন গ্রাম ও বিনত জুবাইল শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে এবং সাধারণ মানুষকে স্থানীয় ভবনগুলো থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা বৈরুত এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হারিস, নাবাতিহ আল-ফাওকা এবং মেফদুন শহরেও ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে তাদের এই রকেট হামলা মূলত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের সরাসরি প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে পুরোদমে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের এই বিশাল উচ্ছেদ অভিযান গাজায় চালানো ‘গণহত্যামূলক’ সামরিক কৌশলেরই প্রতিফলন। গাজা যুদ্ধের সময় যেভাবে সাধারণ মানুষকে গণহারে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, বর্তমানে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ঠিক একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবানন সরকার। দেশটিকে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিতে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বৈরুত। তবে ইসরায়েলি অনড় অবস্থান এবং হিজবুল্লাহর অনবরত রকেট হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম শিখরে।
