জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও কোন্দল দেখা দিয়েছে। নবঘোষিত কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির একাংশের পদবঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১০টায় দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১৬৯ সদস্যের এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মাথায়, রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।
সদ্য ঘোষিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রাফসানজানি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে এই পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দপ্তর সম্পাদক হিসেবে এই পকেট কমিটির বিরুদ্ধে এটিই আমার প্রথম ও শেষ সংবাদ সম্মেলন। আমরা রাজনীতি ধ্বংসের এই পাঁয়তারার বিরুদ্ধে গণপদত্যাগ করছি।”
আরেক এনসিপি নেতা আরফাত আহমেদ রনি অভিযোগ তোলেন, দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে ৭০ শতাংশ নতুন মুখ আনা হয়েছে। এমনকি কক্সবাজারের অধিবাসীদের এনে চট্টগ্রাম মহানগরের কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। শুরুতে আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা অনেক নেতার নাম তালিকায় না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার সহযোগিতা চেয়ে এক বার্তায় বলেন, “জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তের ঋণ শোধ করার শক্তি আল্লাহ আমাদের দিন। পুরোনো ব্যবস্থা ভেঙে এনসিপি যে নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।”
কমিটি গঠনের পরপরই বন্দরনগরীতে দলটির এই প্রকাশ্য কোন্দল ও ভাঙন আগামী দিনে দলীয় কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
