জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য, ১০ বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি

মানুষের লাগামহীন কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর মহাসাগরগুলো ‘প্রচণ্ডভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা’ তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে৷ মাত্র ১০ বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি যতটুকু ছিল, সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷ সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং বিপুল মাত্রায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ ধরাসহ বিভিন্ন অবিনাশী কারণে মহাসাগরের ওপর চাপ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে৷ ‘তৃতীয় বিশ্ব মহাসাগর মূল্যায়ন’ (ওয়ার্ল্ড ওশেন অ্যাসেসমেন্ট) শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বের ৮৬টি দেশের ৬০০ জন শীর্ষ বিজ্ঞানী অংশ নেন৷ তাঁরা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সমুদ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন৷ এর আগের প্রতিবেদনে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল৷

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত দ্রুতগতিতেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে চলেছে৷ ২০১৫ সালে যেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির গতি ছিল প্রতি বছর ২ মিলিমিটার, ২০২৩ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৩ মিলিমিটারে৷ অন্যদিকে, ১৯৫৫ সালের চেয়ে বৈশ্বিকভাবে মহাসাগরগুলোর উষ্ণতা গড়ে ১৬ শতাংশ বেড়েছে৷ বিজ্ঞানীদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বেড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরে৷ এছাড়া ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশেও উল্লেখযোগ্য হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্লাস্টিক দূষণের এক ভয়াবহ চিত্র৷ এতে বলা হয়, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে মহাসাগরগুলোতে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবেশ করছে৷ যার সরাসরি প্রভাবে ইতিমধ্যে চার হাজারের বেশি সামুদ্রিক জীবের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান চরম হুমকিতে পড়েছে এবং তাদের বিলুপ্তির পথ সুগম হচ্ছে৷ বিজ্ঞানীরা আরও জানান, গভীর সমুদ্রতল সম্পর্কে এখনো মানুষের জ্ঞানে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে৷ ২০২৫ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বের সমুদ্রতলের মাত্র ২৭ শতাংশ এলাকা সম্পর্কে মানুষ জানতে পেরেছে, বাকি অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত৷

প্রতিবেদনটি প্রকাশকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, ‘মহাসাগরকে আর অসীম হিসেবে আমরা বিবেচনা করতে পারি না৷ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান রক্ষা করতে জরুরিভাবে বৈশ্বিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে হবে৷’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই মহাসাগরের সঙ্গে বিজ্ঞানের ভিত্তিতে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এবং জাতিসমূহের মধ্যে অংশীদারত্বের দায়িত্বে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে৷’ তবে আশার কথা হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মহাসাগর রক্ষায় বর্তমানে কিছু উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ‘আন্তর্জাতিক মহাসাগর চুক্তি’ অন্যতম৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *