মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের পারদ আরও বাড়িয়ে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি সামরিক স্থাপনায় একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান৷ ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল ঘাঁটি ও যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে৷
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘আলি আল সালেম’ ও ‘আহমদ আল জাবের’ ঘাঁটি এবং বাহরাইনের ‘শেখ ইসা’ ঘাঁটিও রয়েছে৷ গতকাল বুধবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট সিস্টেম’ এবং প্রধান যোগাযোগ স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে এই জোরালো হামলা চালানো হয়৷
সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলাটি চালানো হয়েছে জর্ডানের মাটিতে৷ আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের ‘আল-আজরাক’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ১২টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান৷ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন বিমানঘাঁটির মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (কন্ট্রোল সেন্টার) এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে৷
হামলার ভয়াবহতা ও কৌশলের কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অভিযানে শুধু ঘাঁটির অবকাঠামোই নয়, বরং সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ (F-15) এবং এফ-১৬ (F-16) ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমানগুলোকেও সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে৷
এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ ইরানের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের পর পেন্টাগন বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, তা জানতে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
