জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের জবাবে ৪৩ মিনিটের লাইভে ১০ কোটির হিসাব দিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বলে সেখানকার জেলা প্রশাসকের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও নানা গুঞ্জন চলছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও মিথ্যা দাবি করে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

প্রশাসকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি সাধারণ জনগণের কাছে আরও বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করতে গত রবিবার (৩১ মে) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। দীর্ঘ ৪৩ মিনিটের ওই বিস্তারিত ভিডিওতে দেবীদ্বার আসনের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দের টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ হয়েছে—তা হাতেকলমে হিসাব দিয়ে বুঝিয়ে দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি (ADP) বরাদ্দের আইনি পার্থক্য না বুঝেই একজন দায়িত্বশীল সরকারি ব্যক্তি এই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া এসব অর্থ সরকারি প্রজেক্ট বা প্রকল্পে নিয়ম মেনে ব্যয় করা হয়েছে; ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সাথে এই টাকার কোনো আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক নেই। অথচ উনি (জেলা প্রশাসক) এমনভাবে মিডিয়ার সামনে বলেছেন, মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে করে বাসায় নিয়ে গেছি! প্রকৃতপক্ষে এসব টাকা দেবীদ্বারের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

হিসাবের বিবরণ দিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “এখানে তো জনগণের কাছে লুকানোর মতো কিছু নেই, সবকিছু সরকারি ওয়েবসাইটে ওয়ান ক্লিক দূরে আছে। এটি চাইলে যেকোনো নাগরিক দেখতে পারেন। ১০ কোটি টাকার প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে; অথচ আমি যখন নির্বাচিত হইনি, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্ব তহবিলসহ সব মিলিয়ে আট কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেবীদ্বারে দেওয়া হয়েছে। এখানে এক টাকা কমও না, এক টাকা বেশিও না। মোট ১৪৮টি পৃথক খাতে এসব উন্নয়ন প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে, যার একটা প্রজেক্টও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমপ্লিট বা শেষ হয়নি।”

জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, “জেলা প্রশাসক হুট করে বললেন আমি ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছি। আর এর ওপর ভিত্তি করে গত দুদিন ধরে কিছু সংবাদমাধ্যমে চরম মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হলো যে আমরা টাকা নিয়ে গেছি, মানুষের কাছে লুকিয়েছি। অথচ বিষয়টি ‘ব্রড ডেলাইট ওপেন’ বা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। যারা এই প্রপাগান্ডা করেছেন—আপনাদের যদি সামান্য চর্মচক্ষু আর জ্ঞানবুদ্ধি থাকে, তবে শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই বিষয়টি পানির মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। কোন সরকারি খাতে কয় টাকা এবং কোন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেছে—চাইলেই সব কিছু বের করা সম্ভব।”

তিনি আরও যোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে যতগুলো বরাদ্দ বা বাজেট এসেছে, তার সবগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তিনি সম্প্রতি লাইভে এসে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। এমনকি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় এই উন্নয়নকাজের তথ্য প্রতিনিয়ত আপডেট করা হয়। সবার হাতে থাকা মোবাইল বা ফেসবুক থেকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://zp.cumilla.gov.bd) সার্চ করলেই দুই মিনিটে পুরো ডিটেইল বা নথিপত্র পাওয়া সম্ভব। এমন একটি স্বচ্ছ বিষয়কে যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফ্রেমিং ও অপপ্রচার করা হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *