জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে এবং অনলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে নতুন ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জোড় ও বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে ক্লাস নেওয়ার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জোড় তারিখে অনলাইন এবং বিজোড় তারিখে অফলাইন (সশরীরে) ক্লাস পরিচালিত হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ল্যাব বা ব্যবহারিক ক্লাসগুলো শুধুমাত্র অফলাইনেই রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত এই পরিকল্পনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার মোট আটটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি: সরকারি চাকুরেদের সাপ্তাহিক ছুটি ৩ দিন করা অথবা সপ্তাহে ২ দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজের সুযোগ দেওয়া।
  • অফিস সময়সূচি: অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনা।
  • শিক্ষা কার্যক্রম: স্কুলগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়া। তবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা হয়নি।

বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিপরিষদ সভায় এই আটটি প্রস্তাবের মধ্য থেকে কোনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়—উভয় দিক বিবেচনা করেই এই হাইব্রিড মডেলটি কার্যকর করার কথা ভাবছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *