মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে দুবাই উপকূলের কাছে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে কুয়েতের পতাকাবাহী ‘আল-সালমি’ নামের ওই জাহাজে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছিল, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ড্রোন হামলায় জাহাজের গঠনগত ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা না হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ও তেলক্ষেত্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই হুমকির তোয়াক্কা না করেই এই হামলা চালাল তেহরান। এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার অতিক্রম করেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী আকাশ ও সমুদ্র ড্রোন ব্যবহার করে নিয়মিত এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
