ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীর নাম থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সংগঠনটি। ছাত্রদলের দাবি, অভিযুক্তরা কেউই স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগে যোগ দেননি; বরং হলে আবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য তৎকালীন ছাত্রলীগ তাঁদের নাম বাধ্যতামূলকভাবে তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল।
গত ১ মে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার ৫১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। তানভীর আব্দুল্লাহকে আহ্বায়ক এবং মেহেদী হাসানকে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটির তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ২০২৩ সালে গঠিত কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির ১১ জন পদধারী নেতা এই নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলেজ ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের হোস্টেলগুলোতে আবাসন সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। এই সামান্য সুযোগ ব্যবহার করে বিগত সরকার ও ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পদ চাপিয়ে দিয়েছিল।
ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী, যাদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তাঁরা সবাই ম-৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে যখন ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যের কমিটি হয়, তখন তাঁরা ছিলেন সবচেয়ে জুনিয়র। হলে থাকার কারণে তাঁদের নামে ছাত্রলীগের পদ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রদলের ভাষায়, “হলে থেকেছেন অথচ ছাত্রলীগের পদ দিয়ে সিল মারা হয়নি—এমন ঘটনা তখন বিরল ছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই শিক্ষার্থীরা কখনোই ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না। বরং গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাঁরা ছাত্রদলের পাশে থেকে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই তাঁদের ছাত্রদলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করে, ৫ আগস্টের পর ‘গুপ্ত রাজনীতি’র ডাকে সাড়া না দেওয়ায় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মুখে ঠেলে দিতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মমেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ, বর্তমান আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপসহ অন্যান্যেরা উপস্থিত ছিলেন।
