হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবাহী ছয়টি জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান সরকার অনুমতি দিলেও বাংলাদেশের জন্য সুখবরটি ম্লান হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতায়। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, ইরানের কাছে পাঠানো তালিকার ৬টি জাহাজের মধ্যে ৫টিই ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করেছে।
ভুল তথ্যের খেসারত:-
জ্বালানি বিভাগ গত ২৫ মার্চ ইরানের কাছে যে ছয়টি জাহাজের তালিকা পাঠিয়েছিল, তা মূলত যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পুরোনো পরিকল্পনার ভিত্তিতে তৈরি। সেখানে কাতারএনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের দেওয়া ‘ফোর্স মেজর’ (অনিবার্য কারণে সরবরাহ স্থগিত) ঘোষণাটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক জানিয়েছেন, কাতারএনার্জি আগামী ৮ মে পর্যন্ত তাদের সরবরাহ স্থগিত রেখেছে। ফলে ইরানের অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোর কোনো অস্তিত্বই বর্তমানে নেই।
স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা ও উচ্চমূল্য:-
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে ৯টি কার্গোর মধ্যে ৮টিই বাংলাদেশ এখন ‘স্পট মার্কেট’ বা খোলা বাজার থেকে চড়া দামে কিনছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, বিকল্প হিসেবে অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি কার্গো আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভর্তুকির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিকল্প উৎসের সন্ধান:-
সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন রাশিয়ার পরিশোধিত তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই অনুরোধ জানান। এরই মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যা ব্যারেল প্রতি ৭৬.৪১ ডলারে কেনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘কেস-বাই-কেস’ আলোচনার ভিত্তিতে এই আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
