জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: পাম্প পরিদর্শনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গাড়ি তেলের জন্য ভিড় করছে। মূলত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আতঙ্ক থেকেই ভোক্তারা ফুল ট্যাংক তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদাকারীদের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবে স্টকে কোনো ঘাটতি নেই।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সশরীরে পরিদর্শন করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তারা পাম্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকদের সাথে কথা বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সজাগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে এবং সংকটের কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বৈশ্বিক বাজার নিয়ে বলেন, “বিশ্ববাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও আমাদের চেষ্টা থাকবে দেশে তেলের দাম না বাড়ানোর। একেবারেই সম্ভব না হলে আমরা জনগণের সাথে বিষয়টি শেয়ার করবো।” যতটুকু প্রয়োজন তার বেশি জ্বালানি না কেনার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২ মার্চ) থেকে চার দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৯৮ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫৫ হাজার টন। এছাড়া পেট্রোল ও অকটেনের বিক্রিও ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *