বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস কার্যক্রম অনলাইন ও অফলাইনে ভাগ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এটি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে। কোন পর্যায়ের ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সব বিষয়ে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। যুদ্ধ পরিস্থিতি (War Crisis) আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব, সেটি নিয়ে আমরা ভাবছি।”
ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এক মাস পার হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নজিরবিহীন সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আগামী ৯০ দিনের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
- সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো।
- কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজের সুযোগ।
- অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়া।
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা এবং এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
