হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বিনামূল্যে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা। এর ফলে বিমানবন্দরে আগত ও বহির্গামী দেশি-বিদেশি প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ যাত্রী একই সময়ে কোনো খরচ ছাড়াই এই ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
আজ রোববার (১৭ মে, ২০২৬) দুপুর ২টায় বিমানবন্দরের এক অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পর্যটন মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজ বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে তার আরও একটি ধাপ পূরণ হলো। আমরা আশা করছি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালও খুব দ্রুত উদ্বোধন করতে সক্ষম হবো, যা দেশের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।”
অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “একসঙ্গে সাড়ে ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী এই ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।” অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই শক্তিশালী ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে— টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) টার্মিনাল, ভিআইপি ও ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা।
এই সেবাটি নির্বিঘ্ন ও স্থিতিশীল রাখতে আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস (Gbps) ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে গতিশীল ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরীক্ষামূলক চলাকালীন সময়েই প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই সেবা সফলভাবে ব্যবহার করেছেন এবং এ সময়ে মোট ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট (TB) ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে।
