রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দিনের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাবিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা রমনা ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের অপসারণ ও বিচার দাবি করেন।
থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ডিসি মাসুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক সমাবেশ ও মিছিলে হামলা-মারপিটের পুরনো রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে আছেন। তারা বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তার অতীত কর্মকাণ্ডের কোনো তদন্ত হয়নি, যা নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা প্রধানত তিনটি দাবি তুলে ধরেন:
১. নাঈম উদ্দিন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার নির্দেশদাতা এবং সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে।
২. হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ডিসি মাসুদ আলমকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং ঢাবি শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনের ওপর চড়াও হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। হামলার কয়েকটি ভিডিও রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও (ডাকসু)।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
