দেশের বাজারে মহামূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আকাশচুম্বী বা রেকর্ড পরিমাণ বাড়ার পর আজ রোববারও (৫ জুলাই) সারা দেশে একই উচ্চ মূল্যে অলংকার কেনাবেচা হচ্ছে৷ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করার পর থেকে এই রানিং রেট কার্যকর রয়েছে৷
সংগঠনের মূল্য নির্ধারণ কমিটি জানিয়েছে— পরবর্তী নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের বাজারে এই ঐতিহাসিক চড়া দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে৷
পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সিদ্ধান্ত: বাজুসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— স্থানীয় বাজারে অলংকার তৈরির মূল কাঁচামাল তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড)-এর দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ফলে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও দেশীয় ব্যবসায়ী-ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণের এই নতুন পুনর্বিন্যাসকৃত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দেশজুড়ে কার্যকর রয়েছে৷
নতুন ও পুরাতন দামের তুলনামূলক চিত্র: বাজুসের ঘোষিত সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী— দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা৷ এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে৷
এর আগে সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস৷ সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা করা হয়েছিল৷ ওই তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩…৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০…২৩২ টাকা৷ কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ায় বিয়ের মরসুমে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা গহনা কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এবং অলংকারের দোকানে ক্রেতা সমাগম রানিং গতিতে কমে গেছে৷
