সমগ্র ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে অবস্থিত মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তিনটি বৈশ্বিক গভীর মহাকাশ যোগাযোগকেন্দ্রের (Deep Space Network) একটি থেকে গত শুক্রবারে সব কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে— এই আকস্মিক ঘটনার ফলে গ্যালাক্সির দূরবর্তী অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কার্যক্রম বেশ ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷
নাসার একজন মুখপাত্র এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান— আক্রান্ত কেন্দ্রটি হলো ‘মাদ্রিদ ডিপ স্পেস কমিউনিকেশনস কমপ্লেক্স’ (এমডিএসসিসি), যা স্পেনের রব্লেদো এলাকায় অবস্থিত৷ এই স্পর্শকাতর কেন্দ্রটি স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থল থেকে আনুমানিক ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত৷ আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী— দাবানলের আগুন সরাসরি এমডিএসসিসি এলাকার মধ্য দিয়েই বয়ে গেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে— পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণে এলে পরবর্তীতে কেন্দ্রটির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানা সম্ভব হবে৷ তবে তার আগেই কেন্দ্রটির সমস্ত কর্মীকে দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে৷
উল্লেখ্য যে— এই এমডিএসসিসি কেন্দ্রটি নাসার বৈশ্বিক ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের’ (ডিএসএন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ৷ সমগ্র পৃথিবীর এই নেটওয়ার্কের তিনটি বিশেষ কেন্দ্রের মাধ্যমে নাসা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সুদূর ও দূরবর্তী অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানো তাদের বিভিন্ন অত্যাধুনিক মহাকাশযানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে৷
ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের অপর দুটি বৈশ্বিক কেন্দ্র রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডস্টোনে৷ নাসা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে— স্পেনের কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বাকি দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে মহাকাশ মিশনগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম ও সহায়তা যথাসম্ভব নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়ার জোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷
নাসার দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে— ‘আমাদের ডেডিকেটেড কর্মীদের নিরাপত্তা ও শারীরিক সুস্থতা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়৷ পাশাপাশি, আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিও আমরা গভীর সহমর্মিতা জানাচ্ছি৷’
