ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক ও অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান৷ শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেন৷ এর আগে শনিবার নির্ধারিত তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন তিনি৷
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান ও অনড় দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ৷ শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেয় যে— শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে কেন্দ্রীয় সরকার রাজি না হলে তারা সরকারের সাথে কোনো প্রকার দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেই অংশ নেবে না৷
উল্লেখ্য যে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মূল তিনটি দাবি ছিল— ১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ৷ ২. আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা বা মামলা না নেওয়া৷ ৩. নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মর্মান্তিক ঘটনায় মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া৷
এর আগে শুক্রবার কেন্দ্র সরকার শিক্ষার্থীদের শেষের দুটি দাবি মেনে নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান জানায়নি৷ কিন্তু শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির অনড় অবস্থানের কারণে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় মোদি সরকার৷
পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন— ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর ও আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে৷ ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের প্রধান নৈতিক অঙ্গীকার৷ প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে এতদিন দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি৷’
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর গণমাধ্যমে আসার সাথে সাথেই দিল্লির যন্তর মন্তরের ঐতিহাসিক আন্দোলনস্থলে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা৷ নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রধান শহরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল৷ মূলধারার বিরোধী দলগুলোর সরাসরি সমর্থন এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যার ফলে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে চরম রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়৷
