দেশে হামের প্রকোপ চরম ও উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে৷ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কামড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও সাত শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে৷ একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৮৮৭ জন শিশু৷ এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ৮০ জন শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে৷
আজ শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হামবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে৷
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও সুস্থতার পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া সাতটি শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়জনই রাজধানী ঢাকায় এবং বাকি একজন বরিশাল বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে৷
সরকারি তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি হয়েছে ৭৫ হাজার ৯০২ জন শিশু৷ আশার কথা হলো, তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে ৭১ হাজার ৯৭০ জন শিশু সুস্থ হয়ে সুস্থ শরীরে নিজের বাড়ি ফিরে গেছে৷
তিন মাসে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে কেবল হামের উপসর্গের কারণেই ৫৮৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ অন্যদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ৯৩ জন শিশু৷ ফলে সব মিলিয়ে তিন মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে৷
একই সময়ে অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯১ হাজার ৭৮৯ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন স্পষ্ট উপসর্গ দেখা দিয়েছে৷ এর মধ্যে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৪৯ জনের শরীরে৷ সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত সর্বমোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৩৮ জনে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে৷
