যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং যেকোনো নতুন উসকানি বা সামরিক হামলার কারণে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ৷ একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে এখনই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে— এমন আশা করা চরম ‘তাড়াহুড়ো’ ও ভুল হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন৷
রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ম্যাক্স’ (Max)-এ দেওয়া এক বিশেষ ও আনুষ্ঠানিক পোস্টে রাশিয়ার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, “লেবাননে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা বা অন্য যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এই অস্থিতিশীল চুক্তিটি অত্যন্ত সহজেই ভেস্তে যেতে পারে৷ আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান মন্ত্রিসভা— যারা মূলত এই যুদ্ধের মাধ্যমেই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, তাদের জন্য ঠিক এই উসকানিমূলক পরিস্থিতিটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন৷ সুতরাং, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আশা করাটা হবে সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত৷”
রাশিয়া-ইরান অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বরাজনীতিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানসহ দুই দেশ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একাধিক কৌশলগত জোটও গড়ে তুলেছে৷
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের দিনগুলোতে মস্কো মূলত কূটনৈতিক এবং কেবল মৌখিক সমর্থনের মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রেখেছে৷ রাশিয়া সরাসরি ইরানের পক্ষে কোনো বড় সামরিক ফ্রন্টে অংশ না নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ আর এমন এক সমীকরণের মাঝেই ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি নিয়ে রাশিয়ার এই শীর্ষ নেতার সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে৷
