নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আজ সিজেপির বিক্ষোভ, ‘থালা-চামচ’ নিয়ে অভিনব প্রতিবাদের ডাক

ভারতের মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেশজুড়ে চলমান নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগে আজ উত্তাল হতে যাচ্ছে দেশটির রাজধানী নতুন দিল্লি৷ দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আজ শনিবার (২০ জুন) আবারও একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক আন্দোলনকারী দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)৷ এই ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনকারীদেরকে নিজেদের সাথে একটি করে ‘থালা’ ও ‘চামচ’ নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে৷

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আগামীকালের (শনিবার) যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যারা যারা অংশ নেবেন, তারা সবাই দয়া করে নিজেদের বাড়ি থেকে একটি থালা ও একটি চামচ সাথে নিয়ে আসবেন৷ এর পর কী করতে হবে, তা আপনারা সবাই খুব ভালো করেই জানেন৷”

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ ২০ জুন শনিবার দুপুর ১টায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে৷ এই আন্দোলনের জন্য ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে সমস্ত আইনি অনুমতি সংগ্রহ করেছে দলটি৷ আন্দোলনকারীরা নিট পরীক্ষায় দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) অধীনে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত পদত্যাগ দাবি করবেন৷

শিক্ষাক্ষেত্রে এই বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে এটি সিজেপির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্ষোভ কর্মসূচি৷ এর আগে গত ৬ জুন একই স্থানে বড় ধরনের একটি আন্দোলন পরিচালনা করেছিল তারা৷ শুধুমাত্র দিল্লিই নয়, পুনে, লখনউ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও জয়পুরসহ ভারতের বিভিন্ন বড় বড় প্রধান শহরেও সংগঠনটি প্রতিনিয়ত বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের থালা ও চামচ সাথে আনার এই আহ্বানটি মূলত ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারির চরম সংকটের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া একটি দেশব্যাপী আহ্বানের প্রতি তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে৷ সে সময় ভারতের প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রথম সারির যোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা জানাতে দেশবাসীকে একটি নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে বাসার বারান্দা বা ছাদে দাঁড়িয়ে থালা-বাসন ও কাঁসর বাজানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি৷ সিজেপি এবার সেই কৌশলকেই মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মূল অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *