যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে দায়িত্ব গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ঠিক এক দিন আগেই আকস্মিকভাবে তাঁর অফিসে হাজির হয়েছেন৷ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা দপ্তরের শত শত গোয়েন্দাকর্মীকে চাকরি থেকে বহিষ্কার বা ছাঁটাই করার একটি বড় পরিকল্পনা করছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে৷
বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ের (ওডিএনআই) সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন৷ এই তালিকা থেকে তিনি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে মূল্যায়ন করবেন যে কারা চাকরিতে বহাল থাকবেন এবং কাদেরকে সরাসরি ছাঁটাই করা হতে পারে৷
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওডিএনআই (ODNI) থেকে কয়েক শত গুরুত্বপূর্ণ পদ একবারে কমিয়ে ফেলার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ভাবছেন বিল পুল্টে৷ দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতি ও কড়া মনোভাব অফিসের নিয়মিত কর্মকর্তাদের রীতিমতো অবাক ও আতঙ্কিত করেছে৷ এমনকি বিদায়ী গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডও বিল পুল্টের এই আকস্মিক দপ্তর সফর সম্পর্কে খুব অল্প সময় আগে জানতে পেরেছেন, যা মার্কিন গোয়েন্দা প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে৷
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে ওডিএনআই-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে বিল পুল্টে জানতে চান— তিনি প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন (পিডিবি) নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন কি না৷ মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর এই নথিতে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ও মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনা ধারণ করা থাকে৷ এই স্পর্শকাতর নথি বাড়িতে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি অভিজ্ঞ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও পেশাদারী সংশয় সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে৷
এ ছাড়া তিনি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই নিজের ব্যক্তিগত বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র, অত্যন্ত গোপন তথ্য পাওয়ার আইনি অনুমতি এবং সরকারি বিশেষ বিমান ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান বলে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউস এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় (ওডিএনআই) এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি৷
