“নিরাপত্তা ও সহিংসতার শঙ্কার কারণেই এবার সরাসরি নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। এটি কোনো নীতিগত বিরোধ নয়, বরং কৌশলগত সিদ্ধান্ত।”

নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মারদিয়া মমতাজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী না দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে নিরাপত্তা ও সহিংসতার শঙ্কাকে চিহ্নিত করেছেন প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক ও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দলের কৌশল ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
মারদিয়া মমতাজ জানান, অতীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে শত শত নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সরাসরি নির্বাচনে নারী প্রার্থী না রাখা কোনো নীতিগত বিরোধ নয়, বরং বাস্তবসম্মত একটি সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “বিগত নির্বাচনগুলোতে নারীদের ওপর যে ধরনের শারীরিক আক্রমণ হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হওয়ায় জামায়াত এই সাবধানী অবস্থান নিয়েছে।”

দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে আমিরের পদ ব্যতীত নায়েবে আমিরের পদমর্যাদাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব সক্রিয় রয়েছে। ২০৩১ সালের নির্বাচনের জন্য দলটি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিপক্ষে নয়।

অন্যান্য দলের নারী নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, “বিএনপির অনেক নারী প্রার্থী উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে এসেছেন, যা প্রকৃত উইমেনহুডকে প্রতিনিধিত্ব করে না। জামায়াতে বংশপরম্পরায় পদ পাওয়ার সুযোগ নেই, এখানে যোগ্যতা ও ত্যাগের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়।”

সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি পরিবারের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি সাময়িক কৌশল। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে সন্তান ও মুরুব্বিদের দেখাশোনা ব্যাহত হতে পারে—এমন ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে মারদিয়া বলেন, বিষয়টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করা হয়েছে। জামায়াত মূলত করপোরেট বিশ্বের কঠিন নিয়মের বাইরে নারীদের জন্য নমনীয় কর্মঘণ্টা এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভর্তুকির প্রস্তাব করেছে, যা অনেক উন্নত দেশেও প্রচলিত।

পরিশেষে, দলের নাম পরিবর্তন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নাম বদলালেই আক্রমণ বন্ধ হবে না। নাম বদলানোর অর্থ অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া। একাত্তরের ইস্যুতে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কাদা লেপা হয়েছে, তাই আমরা আমাদের গৌরবময় অতীত মুছতে চাই না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *