ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের পূর্ণতা পেতে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে যাওয়ার ব্যাকুলতা। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা এখন এক বিশাল জনস্রোতের মোহনায় পরিণত হয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় কয়েকগুণ বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন আর লঞ্চঘাটগুলোতে এখন কেবলই মানুষের ঢল।
স্বস্তি ও অস্বস্তির মিশ্রণ এবারের ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় অর্থাৎ সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও যানজট না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১৪০ কিলোমিটার অংশেও যান চলাচল স্বাভাবিক। তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। চার লেনের কাজ চলমান থাকায় কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট ও ধীরগতি যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলছে। অন্যদিকে, পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে টোল প্লাজায় দ্রুত টোল পরিশোধের ব্যবস্থা থাকায় দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
রেলপথে টিকিট পাওয়া যেন এক যুদ্ধ জয়। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কমলাপুর স্টেশনে টিকিটের জন্য হাহাকার থাকলেও যারা টিকিট পেয়েছেন, তাদের যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। নৌপথে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ফিরে পেয়েছে তার পুরনো জৌলুস। পদ্মা সেতু চালুর পর সদরঘাট কিছুটা স্তিমিত থাকলেও ঈদ উপলক্ষে সেখানে এখন তীল ধারণের ঠাঁই নেই।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, মাত্র দুই-তিন দিনে দেড় কোটি মানুষের ঢাকা ছাড়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকারের প্রস্তুতিতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরছেন। আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রাফিক আইন মানতে চালকদের সচেতন করা হচ্ছে।
সব ভোগান্তি, টিকিট সংকট আর পথের ক্লান্তি হার মানছে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের অদম্য ইচ্ছার কাছে। বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মতিউর রহমানের ভাষায়, “কষ্ট হলেও বাড়ি যাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
