নোয়াখালীতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি দশা

নোয়াখালী তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে নোয়াখালীর জনজীবন এখন খাদের কিনারায়। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি অংশ অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। একদিকে অসহনীয় গরমে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন।

জেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার। জেলাজুড়ে ১৮০ থেকে ১৯০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশেরও কম বিদ্যুৎ মিলছে। বিশেষ করে সেনবাগ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ এলে আধা ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় না, অথচ লোডশেডিং চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাতেও। চাটখিল ও সেনবাগের হাসপাতালগুলোতে দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাজুক। সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকলেও সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও পথে বসার উপক্রম। সেনবাগের এক ওয়ার্কশপ মালিক জানান, সময়মতো ডেলিভারি দিতে না পারায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের জিএম সারোয়ার জাহান সরবরাহে ঘাটতির কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্যের জন্য জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, পিডিবি কর্তৃপক্ষ জেলা শহরে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক দাবি করলেও বিকেল ও সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই অসহনীয় পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *