পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধ র্ষ ণ ও হ ত্যা র প্রতিবাদ, ধ র্ষ ণের শা স্তি ‘প্রকাশ্যে মৃ ত্যু দ ণ্ড’ চান গোলাম পরওয়ার

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি এই জোর আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজ দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। শিশু রামিসার এই অবর্ণনীয় ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো জাতির জন্য একটি বড় লজ্জার বিষয়। আমরা অনতিবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।” সমাজে এমন পশুতুল্য অপরাধ রুখতে দেশের প্রচলিত আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান চালু করার তাগিদ দেন তিনি।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “পল্লবীতে শিশুর এমন করুণ মৃত্যুর পরও আপনার বিবেক জাগ্রত হয় না? সংবিধানের দোহাই দেওয়া ছেড়ে আগে দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুন।” সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় রামিসার খণ্ডিত দেহ: পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুমের ভেতর থেকে শিশুটির খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাকে খুঁজে না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা পাশের ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তারা দরজায় নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও, ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *