বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করে দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা টাকা ভাগ-বাটোয়ারা এবং মামলা বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন।
সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। নেতারা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মামলায় কাদের আসামি করা হবে এবং কীভাবে করা হবে, তা নির্ধারণ করেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “পুলিশের সঙ্গে টাকা-পয়সা লোকাল বিএনপির লিডাররা ভাগ-বাটোয়ারা করে বাণিজ্য করার জন্য মানুষকে ফোন দিয়ে ভয় দেখায়। বলা হয়—টাকা না দিলে কিন্তু মামলায় নাম দিয়ে দিব, এত টাকা দিতে হবে।”
সরকারের সমালোচনা ও অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আপনি যা করে যাবেন, তার কয়েক গুণ আপনার ওপরে ফিরে আসবে। দীর্ঘদিন একদলীয় শাসন দেখেছি, এখনও তার ধারাবাহিকতা চলছে। তখন বিএনপি-জামায়াতকে খেলার মাঠের বাইরে রেখে একরকমভাবে সংসদকে সাজানো হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে বাইরে রেখে আরেকভাবে সংসদকে চালানো হচ্ছে।”
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “সরকার যখন বাটপারি করে, যে সরকারই হোক না কেন—এটা দেখতে খুব মজা লাগে আমার। যে সরকার বালুর মধ্যে মুখ গুঁজে মনে করে কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না!”
দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা জানি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ। নির্বাহী বিভাগ এবং আইন বিভাগ মোটামুটি একই রকম। কারণ নির্বাহী বিভাগের যিনি প্রধান, তিনিই আইনসভার প্রধান বা সংসদ নেতা হন। বাকি থাকে শুধু বিচার বিভাগ। আর সে কারণেই দেখা যায়, নির্বাহী বিভাগ বলেন আর রাজনৈতিক দল বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে কীভাবে বিচার বিভাগের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়।”
আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।
