পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হয়েছে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আগামী শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেশের সর্বোচ্চ ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় আজ ৪২ মিলিমিটার মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত।
রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ- হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সেখানে ১ নম্বর সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে:
- বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই দিন উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
- শনিবার: একই অবস্থা বজায় থাকবে।
- রোববার: সিলেট ও ময়মনসিংহে ভারী বৃষ্টি হলেও দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, এটি মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার কাছে সৃষ্ট লঘুচাপের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ১৭ মে থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
