গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশের সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রবর্তিত নতুন পোশাক নিয়ে খোদ পুলিশ সদস্যদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পোশাকের মান, আবহাওয়া উপযোগী না হওয়া এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে রঙের সাদৃশ্য থাকায় ৯০ শতাংশ পুলিশ সদস্য পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
পুলিশের পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘নোমান গ্রুপ’-এর কাপড়ের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশ সদর দপ্তর ল্যাব টেস্টের আয়োজন করে। ল্যাব রিপোর্টে দেখা গেছে, চুক্ত অনুযায়ী কাপড়ের আর্দ্রতা শোষণ ক্ষমতা এবং সুতার ঘনত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এআইজি (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন জানান, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পোশাকের রঙ পরিবর্তন হলেও বাজেটে কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “এই পোশাকটি আমাদের বাহিনীর ঐতিহ্যের সাথে যায় না এবং অন্যান্য সংস্থার পোশাকের সাথে হুবহু মিলে যায়।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে শিগগিরই পুরনো কোনো একটি পোশাকে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পোশাকের রঙ ও বৈশিষ্ট্যের সাথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তার একটি মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল পোশাক পরিবর্তন করলেই বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরবে না; বরং সদস্যদের ভালো কাজের পুরস্কার এবং অপকর্মের জন্য তিরস্কার নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাহিনীকে কেউ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।
