ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম জ্বালানি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। দেশের প্রধান পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র দুই সপ্তাহের অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও রাশিয়া থেকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানির আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। বেসরকারি চাকরিজীবী সাজিদ আলী জানান, মাত্র কয়েক লিটার অকটেনের জন্য তাকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বাইরে প্লাস্টিকের বোতলে চড়া দামে তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। ৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ টন (৯ দিনের চাহিদা) এবং অক্টেনের মজুত ছিল ২৮ হাজার ১৫২ টন (২ সপ্তাহের চাহিদা)। এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আবেদন করেছে। এছাড়া ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে জ্বালানি ও এলএনজি কিনতে গিয়ে সরকারি কোষাগার শূন্য হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এসি ও লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজ করার মতো স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেছেন, আমদানির ওপর ৯৫ শতাংশ নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়ায় বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি ভর্তুকির চাপ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ক্লিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
