গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ শনিবার (২০ জুন) খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সমাবেশে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়েছেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ৷
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই অপেক্ষা করছে— প্রথমটি হলো রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন করা, দ্বিতীয়টি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং তৃতীয়টি হলো বিগত আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা৷” একই সাথে তিনি দেশের সর্বত্র চলমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান৷
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ও নতুন বিপ্লবের ডাক: সমাবেশের প্রধান অতিথি ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন ও পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্যই মূলত আমাদের আগামী দিনের বিপ্লব সংগঠিত হবে৷”
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারির ইঙ্গিত দিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, “সরকার যদি কোনো কারণে বিদেশি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তাহলে আমরাও তাদেরকে কোনোভাবেই ছেড়ে কথা বলবো না৷” সেই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ গড়তে উপস্থিত সর্বস্তরের জনতাকে আরও একটি বড় ও চূড়ান্ত বিপ্লবের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷
নেতৃবৃন্দের খুলনা আগমন ও স্বাগত সম্ভাষণ: এর আগে, শনিবার সকালে এই বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রেল ও সড়কপথে খুলনায় এসে পৌঁছান৷ তিনি খুলনার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে উষ্ণ স্বাগত জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ স্থানীয় জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় প্রতিনিধিরা৷ দুপুরের পর থেকে সার্কিট হাউজ ময়দানে শুরু হওয়া এই সমাবেশে খুলনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুনসহ দলে দলে যোগ দেন, যা একসময় বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়৷
