পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে তুলাধোনা করলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটায় কুনাল ঘোষের হয়ে জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এবারের লড়াই কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই।
বালিগঞ্জের সভায় কেজরিওয়াল তাঁর ভাষণ শুরু করেন বাংলায়। খড়গপুর আইআইটিতে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি যখন বলেন, ‘আমি অল্প অল্প বাংলা বলতে পারি’, তখন উপস্থিত জনতা করতালিতে ফেটে পড়ে। তিনি বলেন, মোদি-শাহরা বাংলার সংস্কৃতি বোঝেন না। বাংলার মানুষের ওপর হামলা হলে বাঙালিরা যে পাল্টা জবাব দিতে জানে, তা তিনি দিল্লির রাজনীতিতে বসেই টের পান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নজিরবিহীন আক্রমণ করে কেজরিওয়াল বলেন, “ভারতের ইতিহাসে এত কাপুরুষ প্রধানমন্ত্রী আর দেখা যায়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদি দুর্বল। তাঁর ভাষায়, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে মোদির মুখ থেকে কথা বের হয় না, কাঁপতে শুরু করেন।” দেশে ঘৃণা ছড়ানো, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য তিনি মোদি সরকারকে দায়ী করেন।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে দিল্লির সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার প্রায় ২৭ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই মানুষগুলো সব সুবিধা হারাবেন, একমাত্র মমতা দিদিই তাঁদের রক্ষা করতে পারেন। এছাড়া ইডি, সিবিআই এবং আড়াই লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মিথ্যা মামলায় তাঁকে ৬ মাস জেলে রাখার প্রসঙ্গ টেনে কেজরিওয়াল বলেন, বিজেপি উন্নয়নের কাজ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করে। তারা দিল্লিতে মহিলাদের ২,৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেনি। তাই বিজেপি নেতাদের কোনো প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস না করে ‘দেশ বাঁচাতে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।
