২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দুই বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দাখিল করা এই চার্জশিটে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য।
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, আগুন লাগার পর কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জিসানের নির্দেশে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়েছিল। লিপ ইয়ার উপলক্ষে বিশেষ ছাড় থাকায় সেদিন রেস্টুরেন্টে উপচে পড়া ভিড় ছিল। আগুন লাগার পর গ্রাহকরা যাতে বিল না দিয়ে বের হতে না পারেন, সেজন্যই গেট আটকে দেওয়া হয়। এতে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতরেই অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, ভবনটির জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। সিঁড়িতে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার ও মালামাল স্তূপ করে রাখা হয়েছিল, যা মানুষের নিচে নামার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি ভবনের ছাদেও অবৈধভাবে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ থাকায় মানুষ সেখানে গিয়েও আশ্রয় নিতে পারেনি। আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল নিচতলার ‘চায়ের চুমুক’ কফি শপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে।
সিআইডি এই ঘটনায় আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের এমডি মো. রমজানুল হক নিহাদসহ মোট ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক।
উল্লেখ্য, সেদিন নিহত ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনই মারা গিয়েছিলেন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং ৩ জন আগুনে পুড়ে।
