ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম: আলী রীয়াজ

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও সর্বোত্তম উপায়—এ মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচারের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি ও সংস্কারের চাবিকাঠি জনগণের হাতেই। সাম্য, ন্যায়বিচার ও মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। উল্লেখ্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে টিক চিহ্ন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কাগজে-কলমে এটি ছাপা হলেও এর পেছনে রয়েছে যুবসমাজের ত্যাগ ও রক্তের ইতিহাস। সেই আত্মত্যাগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে না পারলেও জুলাই জাতীয় সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, এবারের গণভোটই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সুযোগ।

তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকলেও গণভোটের ক্ষেত্রে সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে আইনগতভাবে বাধাগ্রস্ত নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। আসন্ন গণভোট নতুন বাংলাদেশ গঠনের পক্ষে জনমত যাচাইয়ের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে রায় এলে সংবিধানে ফ্যাসিবাদী শাসনের সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান।

মতবিনিময় সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *