যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অবরোধ শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত ২৫টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধের ঘোষণা দেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, অবরোধটি মূলত ইরানের বন্দরগামী বা ইরান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর কার্যকর করা হচ্ছে। বর্তমানে ওমানের রাস আল হাদ্দ থেকে গোয়াদর উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা বরাবর মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। এই অবরোধের ফলে প্রায় দুই হাজার জাহাজ উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়েছে এবং প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৪শ জাহাজ।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও শিপিং ট্র্যাকারগুলোর তথ্যমতে, অবরোধ উপেক্ষা করে পার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘রিচ স্টারি’ (Rich Starry) অন্যতম। এছাড়া লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ক্রিশ্চিয়ানা’, ‘মুরলীকিষাণ’ এবং ‘পিস গালফ’ নামের ট্যাঙ্কারগুলোও নজরদারিতে রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, জাহাজগুলো মার্কিন অবরোধ রেখার কাছাকাছি এসে গতি কমিয়ে দিচ্ছে বা অবস্থান পরিবর্তন করছে।
ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলো জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অনেক জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ রাখছে অথবা ভুয়া সিগন্যাল ব্যবহার করছে। এমনকি ‘রিচ স্টারি’র মতো জাহাজগুলো ভুয়া পতাকা (যেমন মালাউই) ব্যবহার করে নিজেদের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে চলাচলের চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোকে জব্দ করা হতে পারে। অন্যদিকে ইরান এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
