মিয়ামিতে ২২ মিনিটের ভিএআর নাটকীয়তা উড়িয়ে ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিলের দাপুটে জয়

চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে আমেরিকার মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ ভোররাতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী হলেন ফুটবলবিশ্ব৷ গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল৷ ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর একটি বিতর্কিত হস্তক্ষেপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে মাঠ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ঝড় ওঠে৷ তবে সেই আকাশচুম্বী হতাশাকেই মাঠের শক্তিতে রূপান্তর করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে সেলেসাওদের এক বড় জয় এনে দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড৷

২২ মিনিটের সেই বিতর্কিত গোল বাতিল: আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে ফ্লোরিডার বিখ্যাত হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ঠিক ২২ মিনিটে প্রথম গোলটি উদ্যাপন করেছিলেন ভিনিসিয়ুস৷ স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ফুটবলারদের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে চোখের পলকে বল প্রতিপক্ষের জালে পাঠান তিনি৷ মাঠের রেফারি শুরুতে গোলের সংকেত দিয়ে বাঁশি বাজালেও, স্কটিশ ফুটবলারদের আপত্তির মুখে মাঠের বাইরে থাকা ভিএআরের সহায়তা নেন৷ বেশ দীর্ঘ সময় নিখুঁতভাবে রিপ্লে পর্যালোচনার পর রেফারি সিদ্ধান্ত দেন যে— শটে বল জালে জড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস৷ আর এই কারণেই ব্রাজিলের সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়৷

রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের কোটি ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়৷ অনেকের মতেই, ঘটনাটি ছিল খুবই সামান্য স্পর্শ বা ‘সফট টাচ’, যার জন্য গোল বাতিল করা অনুচিত ছিল৷ তবে সাবেক স্কটিশ ফুটবল তারকা ও বর্তমান খ্যাতনামা ধারাভাষ্যকার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির এই সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তের পক্ষেই নিজের কড়া মত দিয়েছেন৷ তাঁর মতে, বলে চূড়ান্ত শট নেওয়ার আগে প্রতিপক্ষকে যেকোনো উপায়ে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ফুটবল নিয়মে ফাউল হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত৷

ম্যাকফ্যাডেন ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি অত্যন্ত পরিষ্কার ফাউল ছিল৷ স্পর্শ কম নাকি বেশি ছিল, সেটি আধুনিক ফুটবলে বড় বিষয় নয়৷ বল ক্লিয়ার করার সময় স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়কে লাথি মেরে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই গোলটি বাতিল করার রেফারির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক ছিল৷”

হতাশা ঝেড়ে ভিনির রুদ্ররূপ ও জোড়া গোল: প্রথমার্ধের শুরুতে গোল বাতিল হওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের চেহারায় চরম হতাশার ছাপ দেখা গেলেও, মাঠে তাঁর কার্যকারিতা কমেনি একটুও৷ বরং সেই আক্ষেপ মেটাতে ম্যাচে আরও বেশি বিধ্বংসী ও ক্ষিপ্র হয়ে উঠতে শুরু করেন ব্রাজিলের এই তারকা উইঙ্গার৷ একের পর এক আক্রমণে ধার বাড়িয়ে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত বোকা বানিয়ে কোণঠাসা করে রাখেন তিনি৷

অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) নিজের সেই অক্লান্ত চেষ্টার মধুর ফল পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র৷ দুর্দান্ত গতির এক হেডে বল স্কটিশ জালে জড়িয়ে নিজের অফিশিয়াল গোলের খাতা খোলেন তিনি৷ শুধু তাই নয়, এর কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় গোলটিও তুলে নেন তিনি, যা ব্রাজিলের ব্যবধানকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়৷ বিতর্কিত গোল বাতিলের ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস নিজের জাদুকরী ফুটবল শৈলী দিয়েই সব আলোচনা এবং স্পটলাইট নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *