আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা, কূটনীতির সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা এবং ওয়াশিংটনের মাত্রাতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবির কারণেই দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক টেলিফোন আলাপে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান গভীর ভূ-রাজনৈতিক ও পরমাণু উত্তেজনার মধ্যেই জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে এই ফোনালাপ করলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
টেলিফোন সংলাপে আব্বাস আরাগচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বারবার ইরানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আরও কারণ হিসেবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং আলোচনার টেবিলে বারবার অতিরিক্ত দাবি উত্থাপনের বিষয়গুলোকে প্রধানত দায়ী করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম ও গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ইরান আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার্থে আবারও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এবং সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। একটি যুক্তিসঙ্গত, সম্মানজনক ও ন্যায়সঙ্গত ফলাফল অর্জনের জন্য তেহরান সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে না।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার পর যেকোনো স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সেইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য উস্কানিমূলক সামরিক পথ পরিহার করে জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার (Proximity Talks) পর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সামরিক হুমকির মুখে জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানের এই আন্তর্জাতিক অবস্থান স্পষ্ট করা অত্যন্ত অর্থবহ।
সূত্র: প্রেসি টিভি
