মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত ও পারস্য উপসাগরে চরম উত্তেজনার মাঝেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে৷ কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে— কাতারের দোহায় সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে৷ বিনিয়োগকারী ও বিশ্ববাজারের অংশীজনরা এখন এই সম্ভাব্য আলোচনার দিকে গভীর নজর রাখছেন, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তেলের মূল্যে৷
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক তেল বাজারের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের আগস্ট ডেলিভারির ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি দশমিক ৯ শতাংশ বা ৬৪ সেন্ট পর্যন্ত হ্রাস পেয়ে ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে৷
রেকর্ড দরপতন ও সরবরাহ স্বাভাবিকের প্রত্যাশা: বাজার বিশ্লেষকদের মতে— আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান ব্রেন্ট ক্রুডের এই দাম গত মাসের সমাপনী মূল্যের তুলনায় প্রায় ২০ ডলার বা ২২ শতাংশ কম৷ কাতারের রাজধানী দোহায় দীর্ঘদিনের শত্রু রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র আশাবাদ তৈরি হয়েছে৷ এর ফলে পারস্য উপসাগরে বৈশ্বিক তেলের প্রধান সরবরাহ পরিস্থিতি ও নৌপথ আবারও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ মূলত এই মনস্তাত্ত্বিক কারণেই বিশ্ববাজারে হু হু করে কমছে তেলের দাম৷
হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সমীকরণ: এর আগে গত কয়েকদিনে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন সেন্টকমের পাল্টা হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল৷ এমনকি আইআরজিসি কর্তৃক প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার ঘটনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছিল৷ তবে এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্র ঝড় সামলে বর্তমানে ওই অঞ্চলে এক ধরনের আপেক্ষিক স্থিতিবস্থা ও থমথমে শান্তি বিরাজ করছে৷
বিশ্বের বড় বড় তেল আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীরা এখন সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, সেদিকে গভীর নজর রাখছেন৷ এই আলোচনা সফল হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা৷
