মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে চীন৷ একই সঙ্গে এই সমঝোতার পেছনে মূল মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ইতিবাচক ও বলিষ্ঠ কূটনৈতিক ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং৷ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷
এর আগে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিশ্চিত করেছে যে, তারা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় পুরোপুরি চালু করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত ও কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে৷ তবে এই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে সমস্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিষ্কার বা স্পষ্ট করা হয়নি৷
আজ বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘চীন এই ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানের অবিচল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার উচ্চ প্রশংসা করে’৷ তিনি আরও যোগ করেন, বেইজিং গভীরভাবে আশা করছে যে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী শুক্রবারই এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে৷
মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থে চীন আশা করছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ এবং অবাধ নৌ চলাচল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে৷ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পর এবার চীনের এই শক্তিশালী সমর্থন ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি সুগম করল৷
