যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে ঐতিহাসিক মোড়, অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে নতুন অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত জেডি ভ্যান্সের

দীর্ঘদিনের তীব্র বৈরিতা, সামরিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স৷ দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান৷ জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, দুই দেশই এখন থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ শান্তি এবং সমৃদ্ধিকে যৌথভাবে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার এক বড় ধরনের ঐতিহাসিক সুযোগ দেখতে পাচ্ছে৷

বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও ইরানের প্রতি মার্কিন বার্তা: শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, গত কয়েক ঘণ্টার নিবিড় আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে৷ তবে ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি তিনি মধ্যপ্রাচ্য তথা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গটিও জোরালোভাবে মনে করিয়ে দেন৷ ইরানকে লক্ষ্য করে তিনি কিছুটা সতর্কতার সুরে বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সামগ্রিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এসেছে৷

তবুও অতীতকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন সম্মিলিতভাবে এমন একটি নতুন ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে, যেখানে সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে৷

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন অধ্যায়ের আহ্বান: জেডি ভ্যান্স তাঁর বিবৃতিতে আরও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন৷ তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদেরকে ইরানের সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘একটি সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় শুরু’ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন৷ তাঁর নিজস্ব ভাষায়, ওয়াশিংটন প্রশাসন এখন চায় অতীতের সব সংঘাত ও দ্বন্দ্বকে পেছনে ফেলে দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ও ইতিবাচক ধারায় রূপান্তরিত করতে৷

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও স্থায়ী চ্যালেঞ্জ: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই সাম্প্রতিক ইতিবাচক ও নমনীয় বার্তা দুই পরাশক্তির মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে৷ তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাসের মতো অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো টেবিল বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের এই স্থায়ী উন্নয়ন আদতে কতটা সম্ভব হবে, তা কেবল সময়ই বলে দেবে৷

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *