কলকাতার রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি, প্রশাসনিক নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি ঘিরে যেমন ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে, তেমনি এটি কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক তীব্র নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷

আজ রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কলকাতার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই বিশেষ কর্মসূচিটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়৷ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস এবং রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ এই রাষ্ট্রীয় বা ভিভিআইপি অনুষ্ঠানের জন্য গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার রেড রোডজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে একটি বড় ও সুসজ্জিত মঞ্চ তৈরি করা হয়৷

ঈদের অনুমতি বনাম যোগ দিবস, বিতর্কের কেন্দ্রে রেড রোড: তবে এই জমকালো আয়োজনকে ঘিরে মূল রাজনৈতিক বিতর্কটি তৈরি হয়েছে কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘রেড রোড’ ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান নিয়ে৷ সমালোচকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, এর আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের পবিত্র নামাজের জন্য কলকাতার এই একই জায়গা ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমতি না দেওয়া হলেও, এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান এই রাস্তাটি বন্ধ রাখা হয়েছে৷

এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক নীতিতে আদতে কোনো সমতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না৷ জনসাধারণের ব্যবহারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম লাইফলাইন স্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য একই ধরনের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে দাবি তুলেছেন কলকাতার বিশিষ্ট নাগরিকরা৷

যোগ নিয়ে মোদির বার্তা ও জেলায় জেলায় উৎসব: অন্যদিকে, সব বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বিশেষ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগকে মানবজীবনের সামগ্রিক উন্নয়ন, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন৷ তিনি উপস্থিত সুধীসমাজের উদ্দেশে বলেন, নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে যোগাভ্যাস মানুষের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে, মানসিক ক্লান্তি ও চাপ কমায় এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ তৈরি করতে ভূমিকা রাখে৷

আজ কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে নানা রকমের কর্মসূচি পালিত হয়েছে৷ তবে সব জেলাকে ছাপিয়ে কলকাতার রেড রোডের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক অনুমতি ও বৈষম্যের বিতর্কটিই আজ এদিনের রাজ্য ও আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে৷

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *